প্রকাশিত: ০৬ আগষ্ট ২০২৬ , ০১:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে আবারও স্বল্পপাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (JCS) জানায়, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব সাগরের (ইস্ট সি/সি অব জাপান) দিকে গিয়ে পড়ে। উৎক্ষেপণের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে। জাপান জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের ভূখণ্ড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশ করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়ই এ উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবের লঙ্ঘন। সিউল সরকারের মতে, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবছরের মতো এ বছরও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। অতীতেও এমন মহড়ার আগে বা চলাকালে উত্তর কোরিয়া একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছর জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন এবং আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এরপর থেকেই দেশটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শুধু কোরীয় উপদ্বীপ নয়, পুরো পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়াকে নতুন করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক চাপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।